• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ এএম


নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি: ইরান যুদ্ধের প্রকৃত নিহতের সংখ্যা গোপন করছে পেন্টাগন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২১ জুলাই ২০২৬ ৪:০৪ পিএম

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগন যুদ্ধের প্রকৃত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ করছে না।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া চারজন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, এ ঘটনাই একমাত্র নয়; গত সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আরও তিনটি পৃথক হামলায় ডজনখানেক সেনা আহত হয়েছেন। এসব হামলায় কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থা (ডিসিএএস)-এ কোনো আঘাত বা আহত হওয়ার তথ্য নিবন্ধিত হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইরান-সম্পর্কিত সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ৪২৭ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।এদিকে, পেন্টাগনের মুখপাত্র শান পারনেল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তার ভাষ্য, সামান্য বা প্রাণঘাতী নয় এমন হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হলে তা শত্রুপক্ষের জন্য গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে কাজে লাগতে পারে।এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে পারনেল বলেন, হতাহতের সংখ্যা গোপনের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপ্রসূত’। তিনি দাবি করেন, তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে হতাশা তৈরি করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এসব জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যথাযথ প্রেক্ষাপট ছাড়া বিচ্ছিন্ন ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলে তা বিভ্রান্তিকর চিত্র তুলে ধরে এবং বাস্তব পরিস্থিতি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় আবারও সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি। এদিকে, উত্তর ইরাকে একটি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।

এরই মধ্যে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর মঙ্গলবার টানা দশমবারের মতো ইরানের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ও কার্গো জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে পেন্টাগন এই সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করেছে বলে জানানো হয়।অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে যে, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তেহরান ওই চুক্তির আওতায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন।

/বিএসএস