• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পিএম


ভারতে ‘গোরক্ষকদের’ সাজা দেওয়ার পর মুসলিম বিচারককে হত্যার হুমকি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ জুলাই ২০২৬ ৫:২৩ পিএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ১৪ জন স্বঘোষিত ‘গোরক্ষককে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান অনলাইনে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।২০২২ সালে মধ্যপ্রদেশে ৫০ বছর বয়সী নজির আহমদ গরু পরিবহনের সময় গরু পাচারের অভিযোগ তুলে একদল স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ তার গাড়ির গতিরোধ করে।

পরে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে নজির আহমদ ও তার দুই সঙ্গীকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত নজির আহমদ মারা যান। তবে তার দুই সঙ্গী প্রাণে বেঁচে গিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেন।গত ১২ জুন বিচারক তাবাসসুম খান হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা এবং অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগে ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ে তিনি ঘটনাটিকে ‘স্পষ্ট গণপিটুনির ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।

রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারককে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শুরু হয়। বিভিন্ন ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তিত্ব সাম্প্রদায়িক ভাষায় তাকে আক্রমণ করেন এবং ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেন। একটি ভিডিওতে দণ্ডপ্রাপ্তদের ১০ দিনের মধ্যে মুক্তি না দিলে ‘রক্তপাত’ ঘটানোর হুমকিও দেওয়া হয়।এদিকে ডানপন্থী টেলিভিশন চ্যানেল সুদর্শন নিউজের এক উপস্থাপক দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ‘গোরক্ষকদের পক্ষে আন্দোলনে’ নামার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে বিভিন্ন গোরক্ষা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এ রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। পাঞ্জাবে বিচারক তাবাসসুম খানের কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

ভারতের সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মার্কণ্ডে কাটজু বলেন, বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তার বিচারিক কর্তৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো রায় বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং আইনি ভিত্তির আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত।ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ)। সংগঠন দুটির দাবি, হুমকিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এসসিবিএর সভাপতি বিকাশ সিং বলেন, বিচারকদের ভয়ভীতি দেখানো গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিট উসকানিমূলক ভিডিওগুলোর উৎস শনাক্তে কাজ করছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিচারক তাবাসসুম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং তার জন্য দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

/বিএসএস