• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম


২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ—ইরানের সাথে চুক্তিহীনভাবেই পাকিস্তান ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৬:০৩ পিএম

পাকিস্তানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক শেষ হলো কোনো সমঝোতা ছাড়াই। কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে, আর চুক্তি ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউএসএ।

‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে পরিচিত এই বৈঠকটি শুরু হয় শনিবার বিকেলে এবং টানা চলে রবিবার পর্যন্ত। আলোচনায় অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভেন্স-এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে—এটাই ভালো খবর। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে আমাদের সীমারেখা নির্ধারণ করেছি—কোন বিষয়ে আমরা সমঝোতা করতে পারি এবং কোন বিষয়ে পারি না। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধিদল আমাদের শর্তগুলো মেনে নেয়নি।’

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি হলো, ইরানকে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে না, যা দ্রুত অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে ইরানের প্রতিনিধি দল এসব শর্তে সম্মত হয়নি বলে জানান ভ্যান্স। যদিও ঠিক কোন কোন প্রস্তাবে আপত্তি এসেছে তা তিনি প্রকাশ করেননি, কারণ আলোচনাটি ছিল গোপনীয়।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আরও জটিল আকার নিতে পারে।

ভ্যান্স আরও বলেন, অতীতে ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হলেও মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে—দেশটি দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কতটা আন্তরিক।

তার মতে, এখনো পর্যন্ত সেই ধরনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে—এমন আশাই করছে যুক্তরাষ্ট্র।