• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ এএম


কালবৈশাখীতে শেষ আশ্রয়টুকুও হারালেন জসিম, খোলা আকাশের নিচে পরিবার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ মে ২০২৬ ৩:০১ পিএম

মেঘনা নদীর ভাঙনে নিজের ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়টুকুও কালবৈশাখীর ঝড়ে হারিয়েছেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষক জসিম উদ্দিন। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন একসময় নদীভাঙনের কারণে সবকিছু হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নেন। পরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় সেখান থেকেও তাকে সরে যেতে হয়। সবশেষে বেড়িবাঁধের পাশে খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন তিনি।

কিন্তু গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে যায় তার সেই ঘর। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, যেখানে ঘরটি ছিল সেখানে এখন ছড়িয়ে আছে ভাঙা টিন, ছিন্ন বাঁশ এবং ধ্বংসস্তূপ।

ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহায়তা পাননি জসিম উদ্দিন। ফলে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচেই দিন-রাত পার করছে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন বলেন, “আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। যেটুকু ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে পারি না, বসে বসেই রাত কাটাতে হয়।”

জসিম উদ্দিন বলেন, “নদী আমাদের ভিটেমাটি নিয়েছে, বাঁধের সময় আশ্রয় হারিয়েছি। শেষমেশ এই ছোট ঘরটাই ভরসা ছিল। কালবৈশাখী সেটাও কেড়ে নিল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। কিন্তু ধারাবাহিক দুর্যোগের কারণে তাদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”