যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রেমিক-প্রেমিকা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া-টালিখোলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রেমিক অয়ন হোসেনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রেমিকা মিথিলা খাতুনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত দুজন হলেন অয়ন হোসেন (২২) ও মিথিলা খাতুন (১৮)। অয়ন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আজমপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। মিথিলা যশোরের চৌগাছা পৌরশহরের বাকপাড়ার নাজমুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন।
ক্যাফেতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
পুলিশ, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে অয়ন ও মিথিলা নম্বরবিহীন কালো রঙের ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেলে করে আড়ারদাহ ক্যাফেতে খেতে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মিথিলা।
পথে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া-টালিখোলা মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অয়ন হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু মিথিলার
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মিথিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ দুর্ঘটনায় দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পিকআপচালক পলাতক
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, স্বজনদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মিথিলা। দ্রুতগতিতে চালানোর কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, মরদেহ দুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পিকআপের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
/এএসএফ