• ঢাকা
  • রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ এএম


বিয়ের সাজসজ্জা প্রস্তুত, সকালেই বিয়ে—তার আগেই মা’রা গেলেন বিয়ের বর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৮:২৯ এএম

গাইবান্ধায় বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা। কনের বাড়িতে বরবরণের জন্য সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জার গেট, আর বর সৌমিকের বাড়িতেও চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল ২১ বছর বয়সী আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের। কিন্তু নতুন জীবনের স্বপ্ন পূরণের আগেই বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আসে তাঁর মৃত্যুসংবাদ। মুহূর্তেই আনন্দের আয়োজন বদলে যায় শোক আর আহাজারিতে।

গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার বাসিন্দা সৌমিকের বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারেই ছিল উৎসবের আমেজ। স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে বাড়িগুলো আনন্দে মুখর হয়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন সৌমিকের মৃত্যুতে সব আয়োজন থেমে গেছে। বিয়ের জন্য সাজানো বাড়িতে এখন বিরাজ করছে শোকের পরিবেশ।

সৌমিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। পড়াশোনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন তাঁর ভাই। গত চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌমিকের জ্বরের তীব্রতা ছিল অস্বাভাবিক রকমের বেশি।

শারমিনের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সৌমিককে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর বেলা ১টার দিকে চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদ তাঁকে ব্যবস্থাপত্র দেন। এরপর ওষুধ নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

কিন্তু বাড়িতে ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে থাকতে হয় সৌমিককে। পরে তাঁকে হাসপাতালের ভেতরে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সৌমিকের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তাঁর বোন। তবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবহেলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার বিয়ের সাজে নতুন জীবনের সূচনা করার কথা ছিল সৌমিকের। তাঁকে ঘিরে দুই পরিবারে ছিল আনন্দ ও উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু বিয়ের আগের দিন তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। স্বজনদের অপেক্ষা আর নতুন জীবনের স্বপ্নের জায়গা নিয়েছে শোক ও আহাজারি।

/এসএন