পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে সুপেয় পানির সংকট। সমুদ্র উপকূলীয় এই জেলাটি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় নিরাপদ পানির সংকট দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পনাহীনভাবে নলকূপ স্থাপন এবং পর্যটকের ক্রমবর্ধমান চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় নিরাপদ পানির উৎসের সংখ্যা সীমিত।
ফলে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপের দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর কমে যাওয়া এবং পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান অনেক পানির উৎস থেকেও নিরাপদ পানি পাওয়া যাচ্ছে না।এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সহযোগী সংস্থা হাইসাওয়া। সংস্থাটি কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় নিরাপদ পানি সরবরাহে কাজ করছে।গত তিন বছরে হাইসাওয়া চারটি উপজেলায় ৯৩টি সৌরবিদ্যুৎচালিত পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন করেছে।
পাশাপাশি ৪০০টি নলকূপ এবং ১ হাজার ৫৮৫টি উন্নত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া হাইজিন প্রমোশন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর কাজও পরিচালনা করছে সংস্থাটি। প্রতিটি পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৫০টি পরিবার সুপেয় পানি পাচ্ছে।কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ জানান, জেলার পানির সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও কাজ করছে।
তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন থেকেই সুপেয় পানি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র পানির অপচয় রোধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে কক্সবাজারবাসী আরও ভয়াবহ পানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারেন।
/বিএসএস