• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম


“চোখের সামনে ঘরটা নদীতে চলে যাচ্ছে। থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে কার দরজায় দাঁড়াব, কোথায় যাব, সেটাও জানি না।”

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৯ পিএম

টানা ভারী বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বন্যার পর এবার নদীভাঙনের ভয়াবহ রূপে বিপর্যস্ত কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া এলাকা। মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে একের পর এক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অনেক পরিবার।

তাদেরই একজন কফিল উদ্দিন (৪৫)। ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র আশ্রয় ছিল করোনাকালে বহু কষ্টে গড়ে তোলা একটি পাকা ঘর। নদীভাঙনে সেই ঘর এখন ধীরে ধীরে নদীতে বিলীন হচ্ছে।

শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভাঙনের মুখে থাকা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কফিল উদ্দিন বলেন, “চোখের সামনে ঘরটা নদীতে চলে যাচ্ছে। থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে কার দরজায় দাঁড়াব, কোথায় যাব, সেটাও জানি না।”

তিনি জানান, পাঁচ দিন পর জীবিকার তাগিদে ট্রলি চালাতে বের হলেও নদীভাঙনের খবর শুনে বাড়িতে ফিরে আসেন। এসে দেখেন, একমাত্র বসতঘরটি নদীর দিকে হেলে পড়েছে এবং সেখানে আর বসবাস করা সম্ভব নয়।

নদীর দিকে তাকিয়ে কফিল উদ্দিন আরও বলেন, “সবাই বসতঘরটি দেখতে আসছেন। কিন্তু আমাদের খবর নিচ্ছেন না। কীভাবে কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

বর্তমানে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন তিনি।

কফিল উদ্দিনের স্ত্রী জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, করোনার সময় স্বামী-স্ত্রী মিলে অনেক কষ্ট করে ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। ২০২৩ সালের বন্যায় ঘরের একটি কক্ষ নদীতে ধসে পড়েছিল। এবার পুরো ঘরই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু কফিল উদ্দিনের বাড়িই নয়, কোচপাড়া এলাকায় ইতোমধ্যে অন্তত ১২টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ২৫টি বাড়ির উঠান নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানি কিছুটা কমে যাওয়ার পর ভাঙনের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অনেক বাড়ির নিচে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও ইট খুলে পড়ছে, আবার কোথাও মেঝে দেবে যাচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে সড়কের পাশে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে সড়কের পাশেই রাত কাটাচ্ছেন।

দিনমজুর মিনহাজ উদ্দিনের পরিবারও একই সংকটে রয়েছে। তার স্ত্রী শাহিন আক্তার অভিযোগ করেন, ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু বালুর বস্তা ফেললেও তা ভাঙনকবলিত অংশে না ফেলে নদীর মাঝখানে ফেলা হয়েছে। তার দাবি, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের মতো টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, প্রায় ২৭ বছর আগে এ এলাকায় বসবাস শুরু করার সময় মাতামুহুরী নদী বর্তমান অবস্থান থেকে অন্তত ২৫০ ফুট দূরে ছিল। বছরের পর বছর গতিপথ পরিবর্তন করে নদীটি এখন লোকালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এতে প্রতিবছরই নতুন নতুন পরিবার নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।

/এএসএফ