ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না বলে ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের মুখেও নতি স্বীকার করেনি নয়াদিল্লি। বরং ওমান উপসাগরে তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কো রুবিও ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে অবিলম্বে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
একই সঙ্গে রুবিও জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অমান্য করে ইরানের তেল পরিবহন কিংবা অবৈধ বাণিজ্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।তবে ওয়াশিংটনের এই কড়া বার্তার পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারত। এর আগে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলাপকালে তিনি ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ভারতের তীব্র অসন্তোষের কথা তুলে ধরেছেন।
হামলাটি সংঘটিত হয় এমন এক সময়ে, যখন হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ কার্যকর ছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জয়শঙ্কর বলেন, “পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমি আবারও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতের প্রতিবাদের কথা জানিয়েছি।
বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”আনাদোলুর প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, হামলার প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে ভারত সরকার। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করল ভারত, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বাড়তে থাকা উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে অবৈধভাবে ইরানের তেল পরিবহনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান চালিয়ে তিনটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজ তিনটি হলো গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এম/টি জলবীর’, পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এম/টি ম্যারিভেক্স’ এবং ‘এম/টি সেত্তেবেলো’।মার্কিন বাহিনীর ওই অভিযানের সময়ই ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
/বিএসএস