• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম


ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও ইসরায়েলের সাথে ব্রাজিলের কোটি ডলারের বাণিজ্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুন ২০২৬ ৬:২৫ পিএম

গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকায় দেশটিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।ফ্রান্স সফরকালে ২০২৫ সালে লুলা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেন।

একই সময়ে তার বিশেষ উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম জানান, ব্রাজিল ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত ইসরায়েলে অবস্থানরত ব্রাজিলীয় নাগরিকদের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে।তবে এ যুক্তির সঙ্গে একমত নন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ব্রুনো হুবারম্যান।

তিনি বলেন, ইসরায়েলে বসবাসকারী ব্রাজিলীয় নাগরিকদের কনস্যুলার সেবা ফিলিস্তিনে অবস্থিত ব্রাজিলের দূতাবাস থেকেও দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে ব্রাজিল এ ধরনের সেবা প্রদান করে আসছে।অন্যদিকে বিশ্লেষক ব্রুনো লিমা রোচার মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে সরকারের অনীহার পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা।

তিনি বলেন, ব্রাজিলের রাজনীতিতে বর্তমানে শক্তিশালী জায়নবাদপন্থি ও ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে, যারা দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলপন্থি অবস্থান নেয়।এদিকে সামাজিক আন্দোলন, রাজনৈতিক দল, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ ব্রাজিল সরকারকে ইসরায়েলের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

তারা ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য বাতিল, জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ এবং ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের দাবি তুলেছে। সম্প্রতি ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে এসব দাবি আরও জোরালোভাবে উঠে আসে।বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ১২তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ব্রাজিল। ওই বছর ব্রাজিল ইসরায়েলে ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে, যার মধ্যে জ্বালানি তেল, গরুর মাংস ও সয়াবিন ছিল প্রধান।

অন্যদিকে ইসরায়েল থেকে ব্রাজিল আমদানি করে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।অর্থনীতিবিদ ডায়ানা শাইবের মতে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে, তবে ব্রাজিল তুলনামূলকভাবে দ্রুত বিকল্প বাজার খুঁজে নিতে পারবে। তার ভাষায়, ইসরায়েলের জন্য এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বেশি হতে পারে, বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে।বাণিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও রয়েছে।

২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আমলে সংগঠিত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে অ্যাডলফ হিটলারের কর্মকাণ্ডের তুলনা করায় লুলাকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছিল ইসরায়েল। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে ব্রাজিল তেল আবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপর থেকে ইসরায়েলে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য রয়েছে।তবে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও কঠোর বক্তব্যের পরও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার পথে এখনো হাঁটছে না ব্রাজিল সরকার। ফলে গাজা ইস্যুতে লুলার অবস্থান এবং বাস্তব নীতির মধ্যে ফারাক নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

/ বিএসএস