• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ এএম


গোপন মার্কিন-ইরান আলোচনা নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন নেতানিয়াহু!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুন ২০২৬ ১২:০০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান গোপন আলোচনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিস্মিত করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, সে বিষয়ে ইসরাইলি নেতৃত্ব পুরোপুরি অবগত ছিল না। এমনকি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য নেতানিয়াহু প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মার্কিন সূত্রগুলোর সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একই অবস্থানে দেখা গেলেও বর্তমানে দুই দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত সংঘাতের অবসান চান ট্রাম্প। অন্যদিকে, নিজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুদ্ধের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকতে আগ্রহী নেতানিয়াহু।

সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে একটি খসড়া সমঝোতা অনুমোদিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির মূল বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক পক্ষ নয় তেল আবিব। একই সঙ্গে ইসরাইল আশা প্রকাশ করে যে চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে দুই নেতার সম্পর্ক দৃঢ় বলেই মনে করা হচ্ছিল। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে তাদের অবস্থান ছিল প্রায় অভিন্ন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৌশলগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান চান, আর নেতানিয়াহু দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চাপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার নীতিতে আস্থাশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ট্রাম্পকে সংঘাত নিরসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে হামাস ও হিজবুল্লাহ ইস্যুতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় ইসরাইলের অভ্যন্তরেও নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকট হয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের আপত্তি সত্ত্বেও ইরানবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া এবং লেবাননে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়েও দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট শুধু আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যেও কৌশলগত মতবিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এখন সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির শর্ত ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

/এএসএফ