• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম


প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ, ৬ বছরের রাকার মর্মান্তিক পরিণতি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ জুন ২০২৬ ১০:২২ পিএম

বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত শিশুটির নাম রাকিকা আক্তার রাকা (৬)। সে সান্তাহার পৌরসভার ইয়ার্ড কলোনি নূরানি মাদরাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা রায়হান আলী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রাকা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে তার দাদি, ফুফু ও বাবা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য রাকার বাবাকে আদমদীঘি থানায় পাঠানো হয়।

এদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, সান্তাহার পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেনের বাড়ির শয়নকক্ষসংলগ্ন একটি কক্ষে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে রাকার মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা প্রধান সন্দেহভাজন আমজাদ হোসেনকে আটক করে রাখেন।

খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা ও সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা (৩২) এবং অপর সহযোগী বাবুকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। এ সময় গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের পাশে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

/এএসএফ