• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ এএম


নিখোঁজ শিশুটিকে ফিরে পেতে চাওয়া হয় মুক্তিপণ, দুদিন পর ডোবায় মিলল লাশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ মে ২০২৬ ৪:৪১ পিএম

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দাগনভূঞা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমানউল্লাহপুর বাঁশপাড়া এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ হাসান। সে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকের ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার দাগনভূঞা পৌরসভা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার বেলা তিনটার দিকে বাসা থেকে নিখোঁজ হয় হাসান। পরে সন্ধ্যায় শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

পরিবারের দাবি, শনিবার রাতেই এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে হাসানের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করে মুক্তিপণ চান। প্রথমে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে আবার ফোন করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।

নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশকে জানানো হলেও শিশুটিকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিশুটির মা তারজিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। অপহরণকারীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চেয়েছে। এত টাকা আমরা কোথায় পাব। তারপরও আমরা টাকা জোগাড় করতে ব্যস্ত ছিলাম। পরে দেখি যে নম্বর থেকে কল করেছে, সেটি বন্ধ। পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।’

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফজলুল আজীম বলেন, শিশুটির লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি এবং কোনো মামলাও দায়ের করা হয়নি। এ কারণে ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

অপহরণ ও মুক্তিপণের দাবির বিষয়ে ওসি ফজলুল আজীম বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখান থেকে প্রতারক চক্রের কেউ নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করে থাকতে পারে। তদন্তে দেখা গেছে, যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল সেটি নওগাঁ এলাকার।

তিনি আরও বলেন, শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পরিবারের অগোচরে পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের গাফিলতির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্বজনদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।

/এইচটি