• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম


হিজবুল্লাহর সস্তা ড্রোনে নাস্তানাবুদ ইসরায়েল!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ মে ২০২৬ ৯:৪৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে যুদ্ধের চিত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তির ফাইবার-অপটিক ড্রোন। বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচে তৈরি হলেও অত্যন্ত নির্ভুল এই ড্রোনগুলো ইসরাইলের নিম্ন-উচ্চতার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে।

হিজবুল্লাহ-এর ব্যবহৃত এসব ড্রোন তুলনামূলকভাবে সস্তা হলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। এগুলোকে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে বিকল করা প্রায় অসম্ভব হওয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর নতুন কৌশলগত চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরাইলি স্থল অভিযানে এই ড্রোনগুলো ইতোমধ্যে অপারেশনাল ব্যয়, মানসিক চাপ ও কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা বাড়িয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই ড্রোন?

ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলো সরাসরি একটি অত্যন্ত পাতলা অপটিক্যাল তারের মাধ্যমে অপারেটরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই তার ১৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। যেহেতু এতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা জিপিএস সিগন্যাল ব্যবহার করা হয় না, তাই উন্নত জ্যামিং প্রযুক্তি দিয়েও এগুলোকে প্রতিহত করা কঠিন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ড্রোন তৈরিতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার খরচ হয়। থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ও সাধারণ যন্ত্রাংশ দিয়েই স্থানীয়ভাবে এগুলো তৈরি করা সম্ভব।

ড্রোনগুলো অপারেটরকে লাইভ হাই-রেজোলিউশন ভিডিও পাঠাতে পারে, ফলে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান কিংবা সেনা অবস্থানে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব হয়। হালকা কাঠামো ও খুব নিচ দিয়ে উড়তে পারার কারণে অনেক সময় রাডারেও ধরা পড়ে না।

কেন উদ্বিগ্ন ইসরাইল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরাইলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে এসব ড্রোন শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আকাশসীমায় এগুলোর কার্যকারিতা নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধে লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ওপর চালানো ২২টি হামলার মধ্যে ১৬টিতে এফপিভি ড্রোন ব্যবহারের দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর মূল লক্ষ্য বড় ধ্বংসযজ্ঞ নয়; বরং ইসরাইলি বাহিনীর চলাচল ধীর করা, ঝুঁকি বাড়ানো এবং নিরাপত্তা অঞ্চলকে অনিরাপদ হিসেবে তুলে ধরা।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কি বদলে যাচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু আকাশের উচ্চতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং মাটির কাছাকাছি নিম্ন আকাশসীমাতেও চলছে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা। কম খরচে নির্ভুল হামলার সক্ষমতা ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে ফাইবার-অপটিক ড্রোনেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর কার্যপরিসর সীমিত, তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দক্ষ অপারেটরের প্রয়োজন হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরাইল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম শনাক্তকরণ, উন্নত প্রতিরক্ষা স্তর, ছদ্মবেশ ও দ্রুত অভিযোজনভিত্তিক সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করবে।

সূত্র: Middle East Eye

/এএসএফ