• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ এএম


রিসোর্টে আগু’নে নিহ’ত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, ছাত্রদল নেতার স্ত্রী এখনো নিখোঁজ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩:৫২ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের মধ্যে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে এ ঘটনায় নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী।

সোমবার রাত ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক রিমন ঘোষ জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে একটি পরিবারের ছয়জন এবং অন্য একটি পরিবারের চারজন রয়েছেন। দুই পরিবারই ঢাকায় বসবাস করত। মঙ্গলবার সুবিধাজনক সময়ে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। বর্তমানে মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনাক্ত হওয়া ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন (১৯), লায়লা জাহান (২৫), ইসরাত জাহান (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তাঁরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

নিহত নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। মৌলিতা মেহজাবিন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর লায়লা জাহান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অন্য পরিবারের নিহত চারজন হলেন মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। নাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন।

এদিকে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকায় ছিলেন মোট ১১ জন। ডিএনএ পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত হলেও একজনের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে পরিচয়ের মিল পাওয়া গেছে। তবে বাকি একজনের ডিএনএ নমুনার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ছুটে যান দেওয়ান ফয়সাল। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি রিসোর্টে যান। পরে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে স্ত্রীকে খুঁজতে থাকেন।

পরদিন দেওয়ান ফয়সালের অভিযোগের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রিসোর্টটিতে দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তবে ওই অভিযানে আর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। ফলে নাসরিন আক্তার মুক্তার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

/এসএন