‘কোনো দিন কষ্ট করতে দিইনি’, ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা বাবর আলীছেলেকে ঘিরে কত স্বপ্নই না দেখেছিলেন বৃদ্ধ বাবা বাবর আলী। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে অনেক কষ্টে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন। আশা ছিল, ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবারের অভাব দূর করবেন এবং জীবনের শেষ সময়ে হয়ে উঠবেন তাঁর ভরসা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান আনোয়ার হোসেন। এ দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে তিনিও ছিলেন।আনোয়ারের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরের চাইপাড়া এলাকায়। তিনি ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পূজার ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রিয়জনদের কাছে ফেরার বদলে তাঁর নিথর দেহ ফিরল মৃত্যুর খবর হয়ে।ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা বাবর আলী। কিছুতেই নিজেকে সামলে রাখতে পারছেন না তিনি। যে ছেলেকে ঘিরে ছিল তাঁর জীবনের শেষ সময়ের আশা-ভরসা, সেই ছেলের অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এই বৃদ্ধ বাবা।ছেলের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বাবর আলী বলেন, ‘ছেলেটি লেখাপড়ায় খুব মেধাবী ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছি। কোনো দিন পরিশ্রম করতে দিইনি। আমার একটাই চাওয়া ছিল—ছেলে লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হবে, পরিবারের অভাব দূর করবে। ছেলে সেই স্বপ্ন পূরণের পথেও এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় সবকিছু শেষ হয়ে গেল। আমার আগেই ছেলে চলে গেল।’পরিবারের জন্য আনোয়ার ছিলেন ভবিষ্যতের আশার আলো। তাঁর আয় ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রত্যাশা। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই তছনছ করে দিল সেই স্বপ্ন।আনোয়ারের সংসারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, মাত্র তিন বছরের একটি ছেলে ও এক বছরের একটি মেয়ে। ছোট্ট দুই সন্তান এখনো বোঝে না বাবাকে হারানোর অর্থ কতটা গভীর। আর স্ত্রী ও বৃদ্ধ মা-বাবার সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পাশাপাশি রয়ে গেছে প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় শোক।যে ছেলেকে নিয়ে একদিন দারিদ্র্য জয় করার স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবর আলী, সেই ছেলেকেই শেষ পর্যন্ত নিজের আগে হারাতে হলো তাঁকে। বাবার বুকভরা আশা আর পরিবারের স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে এক গভীর শূন্যতায়।
/বিএসএস