• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম


মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক পতন, নতুন জরিপে চাঞ্চল্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৪০ এএম

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক পতন, নতুন জরিপে চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ১৭ দিন বাকি। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের তীব্র সমর্থনের হার কমে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। নেপোলিটান নিউজ সার্ভিসের জন্য পরিচালিত নতুন এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থার দাবি, তাদের সূচকে ট্রাম্পের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের এই হার এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউজউইকের প্রতিবেদনের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, রক্ষণশীল ঘরানার পরিচিত জনমত জরিপকারী স্কট রাসমুসেনের পরিচালনাধীন আরএমজি রিসার্চ ৫ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালনা করে। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার নিবন্ধিত ভোটার।

ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট ৫৮ শতাংশ

জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সামগ্রিক কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা। বিপরীতে, ৫৮ শতাংশ ভোটার তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সমর্থক ও অসমর্থকদের হারের পার্থক্য অনুযায়ী ট্রাম্পের নিট অ্যাপ্রুভাল রেটিং দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৭ পয়েন্টে। অন্যদিকে, তাঁর প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা ভোটারের হার ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

জরিপে নমুনাগত ভুলের সম্ভাব্য সীমা বা মার্জিন অব এরর উল্লেখ করা হয়েছে প্লাস-মাইনাস ২ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ব্যালট পেপারে তাঁর নিজের নাম না থাকলেও সমর্থকদের এমনভাবে ভোট দেওয়া উচিত, যেন তিনি নিজেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে তিনি বারবার একই বার্তা দিয়েছেন। এমন সময়ে তাঁর এই আহ্বান সামনে এসেছে, যখন বিভিন্ন আগাম পূর্বাভাস ও জরিপ মডেলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে ভালো দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনী পোর্টাল ভোটহাবের ১৫ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা ৫৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেট ও কালশিতে ডেমোক্র্যাটদের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা যথাক্রমে ৬৩ ও ৬২ শতাংশে লেনদেন হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান নিশ্চিত নির্বাচনী ফলাফল নয়; বরং সংশ্লিষ্ট বাজারে অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত অনুমানের প্রতিফলন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের একদিকে ট্রাম্পের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্পবিরোধী জনমতের চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জনপ্রিয়তা কমলেও উদ্বিগ্ন নয় হোয়াইট হাউস

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার নিম্নমুখী প্রবণতা নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতি করবে—এমন ধারণা সরাসরি নাকচ করেছে তাঁর প্রশাসন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল নিউজউইককে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের মাধ্যমে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ভালোভাবেই জানেন কীভাবে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে হয়।

ইঙ্গল আরও বলেন, রিপাবলিকান পার্টির জন্য ট্রাম্প একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা, সেরা বার্তাবাহক এবং অনন্য অনুপ্রেরণাদায়ী মুখ। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নতুন জরিপে ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমর্থন কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোভাব, প্রার্থীদের প্রচার এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার গতিপ্রকৃতিই শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

/এএসএফ