• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ, ‘নো কিংস’!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৪৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ, ‘নো কিংস’ আন্দোলনে ভোটের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির প্রতিবাদে আবারও মাঠে নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ব্যানারে সমাবেশ ও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে এবারের কর্মসূচিতে ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদের পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিতে নাগরিকদের উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন শহরে ‘নো কিংস’ নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়াল এলাকায় কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। সেখানে ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আটলান্টাসহ অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবারের আন্দোলনের মূল বার্তা ভোট

আন্দোলনটির এবারের কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়া, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সঙ্গে ইন্ডিভিজিবল ও ৫০৫০১-এর মতো সংগঠন যুক্ত রয়েছে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে হাজার হাজার কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সমাবেশ, জনসচেতনতামূলক আয়োজন, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভোটসংক্রান্ত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন আন্দোলনকারীরা।

আয়োজকদের মতে, নির্বাচনে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা মোকাবিলা করাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি

লস অ্যাঞ্জেলেসে শনিবার কয়েক শ বিক্ষোভকারী গ্লোরিয়া মোলিনা গ্র্যান্ড পার্কে সমবেত হন। তাঁদের হাতে ছিল ‘নো কিংস’ লেখা প্ল্যাকার্ড ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি। পরে তাঁরা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন স্লোগানে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অভিবাসন অভিযান এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ উঠে আসে।

সান ফ্রান্সিসকোর ওশান বিচ এলাকায় অংশগ্রহণকারীরা মানবপ্রাচীরের মাধ্যমে ‘ভোট’ শব্দটি ফুটিয়ে তোলেন। ওকল্যান্ডেও আয়োজন করা হয় ভ্রাম্যমাণ জনসমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এদিকে টেক্সাসের হিউস্টনে সিটি হলের সামনে প্রায় ৪০০ মানুষ সমবেত হন বলে হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেও আগাম ভোটের প্রচার, ভোটারদের সচেতন করা এবং স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে উদ্বেগ

‘নো কিংস’ আন্দোলন ২০২৫ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

অভিবাসন নীতি, ভোটাধিকার, নির্বাচনী ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং সামাজিক সেবা খাতে পরিবর্তন—এসব বিষয় এবারের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই এবং নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন, তা নিয়ে চলমান আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক আন্দোলনকারীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।

তবে ‘নো কিংস’ কর্মসূচিকে আয়োজকেরা অদলীয় নাগরিক অংশগ্রহণের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরলেও আন্দোলনটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এ কর্মসূচি নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

বিক্ষোভের সময় বন্ধ হয়ে যায় আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট

শনিবারের কর্মসূচির মধ্যেই ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আলোচনায় আসে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হয়। মেটা জানায়, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত পোস্ট ও ব্যবহারকারীদের কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয় বটের তৎপরতা বলে ভুল করেছিল ব্যবস্থাটি।

আন্দোলনের নেতারা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভোটারদের তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে, ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদের পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা সামনে এসেছে। তবে এসব কর্মসূচি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বা রাজনৈতিক ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও হিউস্টন ক্রনিকল।

/এএসএফ