• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম


বাংলাদেশের বিমানবহরে ২০০ উড়োজাহাজ যুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন বিমানমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৫৫ পিএম

বাংলাদেশের বিমানবহরে ২০০ উড়োজাহাজ যুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন বিমানমন্ত্রী

বাংলাদেশের বিমানবহরে বর্তমানে থাকা ৩৫টি উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে একসময় ২০০টিরও বেশি করার স্বপ্ন দেখছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ দেশে আসা শুরু হবে এবং ২০৩৬ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সেগুলো দেশে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ নগরীর সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমি চাই, বিমান শুধু ৩৫টি নয়, আমাদের ছেলেমেয়েরা যেভাবে উন্নত হচ্ছে, বিকশিত হচ্ছে এবং মেধার স্বাক্ষর রাখছে, সেই সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ দেশে ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজ থাকবে।’

মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান বিমানবহরের উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন বিমান পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। এ কারণে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাকে দেশের ভবিষ্যৎ বিমান পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মেধার বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। ধাপে ধাপে বিমানবহর বড় করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী বিমান পরিবহন সক্ষমতার দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়াতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনার প্রয়োজনীয় স্লট নিশ্চিত করতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বাড়লে দেশের যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে নেত্রকোণার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এ অঞ্চলের অবকাঠামোগত অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুলাহেল মাজেদ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

/এএসএফ