• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম


সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার নৌবাহিনীর, আট’ক ১১

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ অক্টোবর ২০২৬ ৩:৪৫ পিএম

সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি কাঠের বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ বোটটি উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এফভি ক্রিস্টাল-১ সমুদ্রে ভাসমান একটি কাঠের বোট দেখতে পায়। ওই বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে গিয়েছিল এবং তাতে পানি প্রবেশ করছিল। বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে এফভি ক্রিস্টাল-১-এর লোকজন বিষয়টি নৌবাহিনীকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটি উদ্ধার করে। সে সময়ও বোটটিতে পানি প্রবেশ করছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাবার এবং মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

নৌবাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কথা বলে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ৬৫ জনের অধিকাংশকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল।

নৌবাহিনী আরও জানায়, উদ্ধার করা বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ার পর এতে পানি প্রবেশ করায় সেখানে থাকা যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক ও নারীও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবপাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।