• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম


বসতভিটা না থাকায় শিক্ষক পদে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ হলো না ইবি ছাত্র মিশনের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ অক্টোবর ২০২৬ ৩:৪২ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। তবে স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে কোনো বসতভিটা না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় মায়ের কাছে বড় হয়েছেন তিনি।

মিশন জানান, তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি।

মিশন আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম স্থান অর্জন করেছিলেন।

তার দাবি, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তার খালু গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। পুলিশ তদন্তের সময় ওই জমির দলিলও তিনি জমা দেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো ওই জমিতে বসবাস করেননি।

মিশন বলেন, পুলিশের কাছে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জমির দলিল জমা দিলেই হবে বলে জানানো হয়। সে অনুযায়ী তিনি জমির দলিল জমা দেন। পরে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাকে বড় করেছেন এবং তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। মিশনের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। সরকারের কাছে চাকরিটি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মিশন আচার্য প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার কি দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে, কিন্তু চাকরি দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতিমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি সমাধান হবে।’

/এসএন