• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ পিএম


প্র’তারণা ও জা’লিয়াতির মা’মলায় ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরু’দ্ধে গ্রে’প্তারি পরোয়ানা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৫ পিএম

প্রতারণা, জালিয়াতি ও প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য চারজন হলেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক। মো. তাবারেজ খান ভারতীয় নাগরিক।

আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন। এর আগে ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে তিনি দেশীয় ও আমদানীকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন।

বাদীর অভিযোগ, ব্যবসার শুরুতে নিয়মিতভাবে অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তার ১ লাখ টাকার পণ্য কেনার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো নগণ্য অর্থ জমা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার করে এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করা হতো। এসব স্লিপের মাধ্যমে পণ্য ফেরত দেখানোর অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রেখে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাগুলো মূলত একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বশির নিজের দায় এড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলক কৌশল হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তাদের আরও দাবি, চারটি মামলার তদন্তই একই থানার পুলিশ করেছে। তদন্তের পর করা দুটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য থেকে অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকে ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা থাকার বিষয়টিও প্রতীয়মান হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।

একটি আইনমান্যকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশে প্রচলিত আইন, বিচার ব্যবস্থা এবং সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল বলেও জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করেছে, বিরোধপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তারা সম্পূর্ণ সত্য উদ্‌ঘাটন ও সঠিক বিচার পাবে।

/এসএন