• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম


ওবায়দুল কাদের-নাছিম-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:১৪ পিএম

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই পলাতক।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এসব হামলায় হত্যা ও নির্যাতনের মতো অপরাধ সংঘটিত হয় বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।প্রসিকিউশনের ভাষ্য, এসব অপরাধ ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী জুলাই গণআন্দোলনের সময় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণ চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করে। এসব কর্মকাণ্ডে নাছিমের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধেও নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়।যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী জুলাই গণআন্দোলনের সময় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণ চালায়। এসব হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যরা আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করে।ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী জুলাই গণআন্দোলনের সময় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণ চালায়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয় বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালায় এবং হত্যা ও নির্যাতনের মতো অপরাধ সংঘটন করে।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে প্রসিকিউশন আদালতে তুলে ধরে।

/বিএসএস