• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম


ভূ-মধ্যসাগরে জ্বালানি ফুরিয়ে সাগরে ভাসছিল নৌকা, ১০ দিন পর উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১২:২২ পিএম

ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রান্ত হয়ে প্রায় ১০ দিন ভেসে থাকা একটি রাবারের নৌকা থেকে ২৯ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে বিপদে পড়া নৌকাটি শেষ পর্যন্ত মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। বর্তমানে তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি নাগরিকসহ মোট ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবরুক থেকে রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। নৌকাটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন দিয়ে চালানো হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না।

যাত্রীদের বলা হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থার অভাবে একপর্যায়ে নৌকাটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পরে জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

প্রায় ১০ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় পুলিশ নৌকাটিতে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন ছিলেন। তাঁদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে নৌযাত্রার বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাগরে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ, খাবার ও পানির সংকটে ৯ বাংলাদেশি এবং একজন সুদানি নাগরিক অসুস্থ হয়ে মারা যান।

আব্দুল করিম জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের কারণে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরেছিল। একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন।

ঘটনাটি জানার পর থেকে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের বক্তব্য ও সরেজমিন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

/এএসএফ