• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম


শিশুকে হাসপাতালে রেখে গেছে পরিবার, কেউ পাশ দিয়ে গেলেই তাকিয়ে থাকে চার মাসের কন্যা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ আগস্ট ২০২৬ ৭:৫১ পিএম

মাত্র চার মাস বয়স। অথচ জীবনের প্রায় পুরো সময়টাই কেটে গেছে হাসপাতালের বিছানায়। ইকুয়েডরের গুয়াকিল শহরের ফ্রান্সিসকো দে ইকাজা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতালে গত মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুকন্যাটি। পরিবারের কেউ তার দায়িত্ব নিতে না আসায় ঘটনাটিকে সম্ভাব্য পরিত্যাগ হিসেবে তদন্ত করছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়।শিশুটির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ইকুয়েডরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সেখানেই রয়েছে সে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।তবে শিশুটিকে তার পরিবার সত্যিই পরিত্যাগ করেছে কি না, কিংবা এর পেছনে কী পরিস্থিতি রয়েছে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘সম্ভাব্য পরিত্যাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে ইকুয়েডরের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়।স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটির পরিবারের কোনো সদস্য তাকে নিতে বা তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে আসেননি। ফলে শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং আইনি অবস্থান কী হবে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষও কাজ করছে।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে ঘিরে একটি আবেগঘন বর্ণনা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, হাসপাতালের বিছানার পাশ দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে শিশুটি মাথা তুলে তাকানোর চেষ্টা করে। যেন পরিচিত কাউকে খুঁজছে, অথবা কেউ তাকে কোলে তুলে নেবে—এমন অপেক্ষায় রয়েছে সে।তবে শিশুটি কেন এভাবে তাকায় কিংবা সে ঠিক কী অনুভব করছে, তা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো উপায় নেই। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও শিশুটির এমন আচরণের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বর্ণনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে শিশুটিকে ঘিরে মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।চার মাস বয়সী একটি শিশুর দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তাকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ শিশুটির জন্য অর্থ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর ইচ্ছাও জানিয়েছেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করতে হয়েছে। ফ্রান্সিসকো দে ইকাজা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতাল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হাসপাতাল কিংবা ইকুয়েডরের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো দত্তক প্রক্রিয়া পরিচালনা করে না। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট বিচারিক ও শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের।একই সঙ্গে শিশুটির নামে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও সতর্ক করেছে হাসপাতাল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শিশুটির জন্য কোনো ডোনেশন ক্যাম্পেইন চালু করেনি। অর্থ পাঠানোর জন্য কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর বা অন্য কোনো মাধ্যমও হাসপাতালের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।হাসপাতালের নাম কিংবা শিশুটির ঘটনা ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষের কোনো অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে টাকা না পাঠানোর জন্যও মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের কোনো উদ্যোগের সঙ্গে হাসপাতালের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।শিশুটির ব্যক্তিগত পরিচয় এবং পরিবারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুটির নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় তার ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত অনেক তথ্যও জনসমক্ষে আনা হয়নি।আপাতত চিকিৎসক, নার্স ও পরিচর্যাকারীরাই শিশুটির চারপাশের মানুষ। তারা সার্বক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করছেন। একই সময়ে প্রসিকিউটররা খতিয়ে দেখছেন, কী পরিস্থিতিতে মাত্র চার মাস বয়সী শিশুটিকে পরিবারের কাউকে ছাড়াই এত দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হলো।তদন্ত শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিশুটির পরবর্তী সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে হবে। তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, নাকি অন্য কোনো আইনসম্মত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফল এবং শিশু সুরক্ষা প্রক্রিয়ার ওপর।জীবনের প্রথম চার মাসেই পরিবারের পরিবর্তে হাসপাতালকে আশ্রয় হিসেবে পাওয়া এই শিশুর ঘটনা ইকুয়েডরে শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটি আপাতত নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকলেও তার স্থায়ী ঠিকানা কোথায় হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত।

/বিএসএস