বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা, ‘সম্মান রক্ষায়’ মেয়েকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
ভারতে বিয়ের আগেই মেয়ের গর্ভধারণের খবর জানার পর তাকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। সামাজিক লজ্জার ভয়ে মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরে চিকিৎসার কথা বলে মেয়েকে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় নিয়ে গিয়ে চম্বল নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার নাটকও সাজানোর অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের গর্ভধারণের খবর জানার পর সামাজিক লজ্জার ভয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবা লাখপত সিং। পরিকল্পনা অনুযায়ী চিকিৎসার কথা বলে মেয়েকে আগ্রায় নিজেদের গ্রামের বাড়িতে যেতে রাজি করান তিনি।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে লাখপত সিং মেয়েকে আগ্রার বাসাউনি এলাকার চম্বল নদীর তীরে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, হত্যার সময় তারা ছবি তোলেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর আগ্রার বাসাউনি এলাকার বাসিন্দা লাখপত সিং দিল্লিতে ফিরে এসে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেন।
পুলিশের সন্দেহ এড়াতে ঘটনাটিকে অপহরণ কিংবা নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে লাখপত সিংয়ের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর লাখপত সিং ও তার ওই আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের আগ্রার ঘটনাস্থলেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চম্বল নদীতে তার সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
/এএসএফ