সেউতা অভিবাসী সংকটে মোসাদের হাত? চীনা গোয়েন্দাদের চাঞ্চল্যকর সন্দেহ
স্পেনের সেউতা সীমান্তে হঠাৎ তীব্র অভিবাসী সংকট তৈরির পেছনে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক একটি গোয়েন্দা তথ্য মূল্যায়নে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে স্পেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এল মান্দো।
চীনা গোয়েন্দাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরায়েল ও স্পেনের মধ্যকার বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্পেনের জোরালো অবস্থান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কূটনৈতিক পদক্ষেপের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি আধুনিক ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বা সংকর যুদ্ধের অংশ হতে পারে। সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পরিবর্তে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, প্রচারণা এবং সীমান্তে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে কোনো দেশকে অস্থিতিশীল করার কৌশলকে হাইব্রিড যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চীনা গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মোসাদ এই সংকটের পেছনে থেকে পুরো পরিস্থিতি পরিচালনা করে থাকতে পারে। তবে এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সেউতা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের একটি ছিটমহল, যা মরক্কোর সীমান্তবর্তী। অতীতেও এই সীমান্ত এলাকাকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সংকটে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি সম্পৃক্ততার এই তত্ত্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে স্পেনের অবস্থানের পর থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের ক্ষেত্রে স্পেন অন্যতম সক্রিয় দেশ। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন কিছু বিশ্লেষক।
এল মান্দোর প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল কিংবা চীনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
/এএসএফ