মার্কিন সাইবার কমান্ডে কর্মরত পাঁচ সদস্যের আত্মহত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনের শুরু থেকে জুলাইয়ের শুরুর মধ্যে এই পাঁচটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনটি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নথি এবং একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুত করা হয়েছে।
পেন্টাগনের পরিভাষায়, অল্প সময়ের মধ্যে একই কর্মস্থল বা প্রতিষ্ঠানে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনাকে ‘সুইসাইড ক্লাস্টার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে মার্কিন সাইবার কমান্ডের জেনারেল জশুয়া রাড কংগ্রেসের কাছে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ চেয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক ক্লান্তি কর্মীদের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিচালিত সাইবার হামলা মোকাবিলার কারণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ওপর কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের একটি পেন্টাগন প্রতিবেদনে সাইবার কমান্ডের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন সাবেক কর্মীর উদ্ধৃতি দিয়ে ব্লুমবার্গ জানায়, ইউনিটটিতে সব সময় উচ্চমাত্রার চাপের মধ্যে কাজ করতে হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে এই আত্মহত্যার ঘটনাগুলোকে ইরান-সংক্রান্ত সাইবার অভিযানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হলেও, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এমন কোনো নিশ্চিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আত্মহত্যার পেছনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
/এএসএফ