মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।
আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথমদিকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়ে লিংকডইনে পোস্ট করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার।
তিনি জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তার ভাষ্য, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মাইলফলক।
ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তার বাবা-মা ১৯৭০-এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন।
এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং পেশাগত অবদানের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।
মিসিসিপির আইন অনুযায়ী, মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে। এ পদে নিয়োগ পেতে প্রার্থীদের নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।
তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক—এই দাবিটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রচারিত হচ্ছে।
/এএসএফ