সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উদ্বোধনের প্রথম দিনেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইনে টিকিট না পাওয়া, অফলাইনে টিকিট সংগ্রহের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা না থাকা এবং দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষার পরও প্রবেশ করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। অনেকেই কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, কেন অপেক্ষা করতে হচ্ছে বা কখন প্রবেশ করতে পারবেন—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। দুপুর ১২টার পর কিছুসংখ্যক দর্শনার্থীকে জাদুঘরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
নোয়াখালী থেকে বাবার সঙ্গে জাদুঘর দেখতে আসা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি গতকাল এসেছি, বাবার সঙ্গে জাদুঘর দেখতে। কালকে তো ঢুকতে দেয়নি। তাই আজকে এসেছি।”
গাজীপুর থেকে আসা মো. রাকিব বলেন, “জানি গতকাল প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন, তাই সেদিন ঢোকা যাবে না। কিন্তু আজ সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন প্রায় ১২টা বাজে, তবুও ঢুকতে দিচ্ছে না। কেউ কিছু বলছেও না। এটা কোনো কথা না।”
জুরাইন থেকে আসা ফয়জুল হোসেন বলেন, “আমরা জুলাই যোদ্ধা। এখানে কেন টিকিট লাগবে? এখানে কিসের ব্যবসা? সকাল ৮টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। দুইবার বৃষ্টিতে ভিজেছি, আবার শুকিয়েছি। টিকিট কাটারও কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা তো অনলাইনে টিকিট কাটতে পারি না। কেন ঢুকতে দেওয়া হবে না, সেটা আমাদের জানাতে হবে।”
সাভার থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা রাজ বলেন, “আমরা সকাল ৯টার দিকে এসেছি। অনলাইনে দেখাচ্ছে ১০ তারিখ পর্যন্ত সব বুকিং শেষ। অফলাইনে কোথায় টিকিট পাওয়া যাবে, সেটাও বুঝতে পারছি না। এখন ১২টা বাজে, কিন্তু কখন ঢুকতে পারব জানি না।”
একই এলাকা থেকে আসা মো. রানা বলেন, “সকাল সাড়ে ৮টায় এসেছি। অনলাইনে টিকিট পাইনি, আবার সরাসরিও কিনতে পারছি না। এখন পর্যন্ত ঢুকতেও পারিনি। কী হবে বুঝতে পারছি না।”
ফার্মগেট থেকে ছেলেকে নিয়ে আসা বাবলু আক্তার বলেন, “সকাল ৮টার দিকে এসেছি। এখনও ঢুকতে পারিনি। কর্তৃপক্ষও পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। কখনও কয়েকজনকে ঢুকতে দিচ্ছে, আবার গেট বন্ধ করে দিচ্ছে। এভাবে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, জানি না।”
নড়াইল থেকে আসা আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, “সকাল থেকেই এমন বিশৃঙ্খলা চলছে। কেউ সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। কখনও বলা হচ্ছে অনলাইনে টিকিট থাকলে ঢোকা যাবে, আবার কখনও বলা হচ্ছে অফলাইনে টিকিট পাওয়া যাবে। একেক সময় একেক কথা বলা হচ্ছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে নির্মিত এই জাদুঘর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক (স্লট) অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন অথবা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। তবে অনলাইনে নির্ধারিত স্লট বুকিং করা দর্শনার্থীদের নির্ধারিত সময়েই প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি স্লট নির্বাচন করতে হবে।
/এসএন