• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ পিএম


“ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপদে ফেলেছে ট্রাম্প”-মার্কিন কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ জুলাই ২০২৬ ৯:১২ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সম্পদের ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কৌশলগত তেলের মজুত কমেছে, সেনাসদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, জাতীয় ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উপেক্ষিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।

এদিকে, টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আপাতত হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সংঘাত কমে আসা, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে তেলের দাম।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে এটি সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমেছিল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার পর দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। একই সঙ্গে লোহিত সাগর অঞ্চলেও সংঘাতের প্রভাব পড়ে, যার কারণে সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল রপ্তানিতেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত সামরিক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও স্পষ্টতা তৈরি হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে ওই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে যায়।

এমএসটি মারকুইয়ের বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত আস্থা না ফিরলে অনেক শিপিং কোম্পানি ঝুঁকি এড়িয়ে চলবে।

/এএসএফ