• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম


ভাঙা আঙুল নিয়েই ১১ সেভ, ফাইনালে ট্র্যাজিক হিরো ‘দিবু’ মার্তিনেজ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২০ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৯ এএম

লিওনেল মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা আনতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে আলবিসেলেস্তেদের হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ শিবিরে যখন উল্লাসে মেতে ওঠেন লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি ও পাও কুবার্সিরা, তখন হতাশায় ভেঙে পড়েন মেসি, রদ্রিগো দে পল ও জিওভান্নি সিমিওনিরা।তবে ফাইনালটি ১২০ মিনিট পর্যন্ত গড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের।

ভাঙা আঙুল নিয়েই পুরো টুর্নামেন্টে খেলেছেন তিনি। আসরের আগের ম্যাচগুলোতে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও ফাইনালে দেখিয়েছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বলা হয়।স্পেনের একের পর এক আক্রমণ অবিশ্বাস্য দক্ষতায় প্রতিহত করে দীর্ঘ সময় দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শট আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। সেই একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পরও ট্রফি ছাড়া মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষককে।

ফাইনালে ১১টি সেভ করে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ সেভের নতুন রেকর্ড গড়েছেন ৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেজ। এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড ছিল ৯টি। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণের সামনে যেন একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মার্তিনেজ। নিকো উইলিয়ামস, লামিন ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়া, পেদ্রি এবং ফেরান তোরেসের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন তিনি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।ফাইনালের শুরুতেই ইয়ামালের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মার্তিনেজ। ৩৯তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের নিশ্চিত গোলের সুযোগও নষ্ট করে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আলেক্স বায়েনার শট ঠেকানোর পর ৬৭তম মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন। ৭৭তম মিনিটে টানা পেদ্রি ও ইয়ামালের দুটি শটও রুখে দেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও উড়ে গিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন আর্জেন্টিনাকে।২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে অবিশ্বাস্য সব সেভ করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এবারও ফাইনালের আগে জানিয়েছিলেন, আঙুলের চোট তার পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না। মাঠে সেই কথারই প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অসাধারণ লড়াই করেও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি। তাই ইতিহাস গড়ার রাতেও ট্রফিবঞ্চিত থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে।

/বিএসএস