• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম


অবরোধের দ্বিতীয় দিনেই হঠাৎ ‘হরমুজ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করে ট্রাম্পের ইউটার্ন!

আপডেট টাইম: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮:১৮ পিএম

ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই হরমুজ প্রণালীকে ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছেন। ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর তার এই ঘোষণায় নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং-এর সঙ্গে গোপন আলোচনার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ইরানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে সম্মত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার জন্য নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আসন্ন বৈঠকে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হবে এবং দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করবে।

এর আগে ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে এবং তেলবাহী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল আটকে দেয় বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে চীন ট্রাম্পের অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়া যুদ্ধ চলাকালে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বাণিজ্য শুল্ক ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার এই ঘোষণা অবিলম্বে কার্যকর হবে, নাকি চলমান শান্তি আলোচনার অংশ—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান আসতে পারে। যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সাম্প্রতিক আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: ডেইলি মেইল