• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ এএম


“রেফারির কারনেই পেনাল্টি মিস করেছি”- এমবাপ্পে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুলাই ২০২৬ ৮:৪২ পিএম

চলতি বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসির সমকক্ষ হয়ে যেতেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফ্রান্স অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে পেনাল্টি মিসের কারণ হিসেবে দীর্ঘ ভিএআর প্রক্রিয়া ও বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি।

বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান এমবাপ্পে। তবে তার নেওয়া শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। অথচ এর আগের ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে পেনাল্টি থেকেই গোল করেছিলেন এই ফরাসি তারকা।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, পেনাল্টি নেওয়ার আগে একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদলানো এবং দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার কারণে তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।

তিনি বলেন, “রেফারি প্রথমে আমাকে জানান যে পেনাল্টি হয়েছে। আমি জানতে চাই, সিদ্ধান্তটি ভিএআরে যাচাই করা হয়েছে কি না। তিনি বলেন, হয়েছে। এরপর থেকেই আমি প্রস্তুতি নিতে শুরু করি এবং উসমান আমাকে বল এনে দেয়।”

তবে এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এমবাপ্পে বলেন, “আমি যখন পেনাল্টি নেওয়ার জন্য মনোযোগ দিচ্ছিলাম, তখন রেফারি এসে বললেন যে পেনাল্টি হয়নি। আমি বলটি তুলে নিই। পরে তিনি আবার বলেন পেনাল্টি হয়েছে, তাই বলটি আবার স্পটে রাখি। কিন্তু এরপর তিনি জানান, দুই মিনিট আগের একটি ঘটনা আবার পরীক্ষা করতে হবে।”

ঘটনার সূত্রপাত ২৫ মিনিটে। মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই বক্সের ভেতরে এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে রেফারি সম্ভাব্য পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য ভিএআরের সাহায্য নেন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন মিনিট সময় লাগে।

এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে স্বীকার করেন এমবাপ্পে।

তিনি বলেন, “পেনাল্টি নেওয়ার সময় কীভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, সে বিষয়ে অনেক কিছু ভেবেছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম।”

চলতি বিশ্বকাপে ভিএআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নিজের মত দেন ফরাসি অধিনায়ক।

তার ভাষায়, “এটি এমন একটি বিষয়, যা আমাদের মেনে নিতে হবে। ভিএআর এখন ফুটবলের অংশ। প্রযুক্তি আসার পর খেলার ধরন বদলেছে এবং আমাদেরও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।”

যদিও পেনাল্টি মিস করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এমবাপ্পে। ৬০ মিনিটে নিজেই গোল করেন তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম এমবাপ্পের প্রশংসা করে বলেন, “আজকের ম্যাচ কঠিন ছিল। আমরা পেনাল্টি মিস করেছি, আরও কিছু সুযোগও নষ্ট করেছি। কিন্তু কিলিয়ান থাকলে দল আত্মবিশ্বাস পায়। সুযোগ নষ্ট করার পরও সে কখনো দ্বিধায় ভোগে না। অনেকে তাকে স্বার্থপর বলে, কিন্তু সে একজন প্রকৃত নেতা এবং দলের জন্য আদর্শ অধিনায়ক।”

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন এমবাপ্পে। সমান ৮ গোল রয়েছে লিওনেল মেসিরও। তবে অ্যাসিস্টের হিসেবে এগিয়ে আছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। মেসির অ্যাসিস্ট ১টি, যেখানে এমবাপ্পে করেছেন ৩টি।

অন্যদিকে উসমান দেম্বেলের গোলসংখ্যা ৫, যার মধ্যে রয়েছে একটি হ্যাটট্রিক। ফ্রান্সের মোট ১৬ গোলের মধ্যে ১১টিই এসেছে এমবাপ্পে ও দেম্বেলের কাছ থেকে। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রেখে দলকে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন এই দুই তারকা।

/এএসএফ