ফুটবল বিশ্বের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ২০টি ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এই মাইলফলকে পৌঁছানোর সময় তার বয়স ছিল ২৭ বছর ২০১ দিন। ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘অপটাজো’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত কম বয়সে ২০টি ম্যাচ খেলার নজির আর কারও নেই।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল পোল্যান্ডের কিংবদন্তি ভ্লাদিস্লাভ আন্তোনি জমুদার দখলে। তিনি ২৮ বছর ৩৪ দিন বয়সে বিশ্বকাপে ২০ ম্যাচ খেলেছিলেন। এমবাপ্পে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন।
এই ম্যাচের মাধ্যমে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডেও সমতা এনেছেন এমবাপ্পে। তিনি সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি গোলরক্ষক হুগো লরিসের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠলে পরবর্তী ম্যাচেই লরিসকে ছাড়িয়ে এককভাবে দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের করে নেবেন তিনি।
এখন পর্যন্ত এমবাপ্পের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও ঈর্ষণীয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন ৭টি ম্যাচ, ২০২২ বিশ্বকাপে ৭টি এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৬টি ম্যাচ।
শুধু ম্যাচ খেলাই নয়, গোল করাতেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার গোল সংখ্যা ৭। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তালিকার শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির গোল ৮টি। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে মেসি ও এমবাপ্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠেছে।
বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকাতেও বড় অগ্রগতি হয়েছে এমবাপ্পের। তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার মোট গোল এখন ১৯টি। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন।
এখন এই তালিকায় তার সামনে রয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি। মেসির চেয়ে মাত্র দুটি গোল পিছিয়ে থাকা এমবাপ্পে বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে অদূর ভবিষ্যতেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারেন।
সূত্র: অপটাজো
/এএসএফ