সানগ্লাসকে অনেকেই শুধুমাত্র ফ্যাশনের অংশ হিসেবে দেখেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল স্টাইলের অনুষঙ্গ নয়; বরং চোখের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা এবং চোখের চারপাশের ত্বকে ক্যানসার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্ক আই অ্যান্ড ইয়ার ইনফার্মারি অব মাউন্ট সিনাই-এর অপটোমেট্রিস্ট ও ইন্সট্রাক্টর ড. ক্রিস্টিনা চার্নি জানিয়েছেন, সঠিক ধরনের সানগ্লাস ব্যবহার করলে অন্ধত্ব এবং চোখের আশপাশের ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি—বিশেষ করে ইউভিএ ও ইউভিবি—চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ড. চার্নি বলেন, এমন সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত যা শতভাগ ইউভি রশ্মি প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
তিনি জানান, দীর্ঘসময় সানগ্লাস ছাড়া রোদে থাকলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চোখের পাতা, চোখের চারপাশের ত্বক এমনকি চোখের ভেতরেও ক্যানসারের সম্ভাবনা। এছাড়া রেটিনার ক্ষতি বা ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হতে পারে, যা ধীরে ধীরে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সূর্যের আলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখে ছানি পড়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে পারে।
চশমা কেনার সময় শুধু ডিজাইন বা রঙ নয়, বরং এর সুরক্ষামূলক বৈশিষ্ট্যও যাচাই করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, সানগ্লাসের গায়ে বা প্যাকেটে ‘১০০% ইউভিএ/ইউভিবি প্রোটেকশন’ লেখা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সস্তা প্লাস্টিকের চশমায় এই সুরক্ষা থাকে না।
দ্বিতীয়ত, বড় লেন্সযুক্ত সানগ্লাস বেশি কার্যকর। ছোট বা কেবল ফ্যাশননির্ভর চশমার তুলনায় বড় লেন্স চোখের মণির পাশাপাশি চোখের পাতা ও চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকও সুরক্ষিত রাখে।
তৃতীয়ত, লেন্সের রঙ যাই হোক—বাদামি, সবুজ বা নীল—তা যেন যথেষ্ট গাঢ় হয়, সেদিকেও নজর রাখতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পোলারাইজড লেন্স পানির ওপর বা রাস্তার তীব্র প্রতিফলন কমিয়ে দৃষ্টিকে আরও পরিষ্কার করে। তাই ড্রাইভিং বা পানির কাছাকাছি কাজের ক্ষেত্রে এই ধরনের লেন্স বেশ কার্যকর।
অন্যদিকে মিররড লেন্স মূলত ফ্যাশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো বাড়তি কোনো সুরক্ষা দেয় না।
ট্রানজিশন লেন্স রোদে গেলে গাঢ় হয়ে যায়। তবে গাড়ির ভেতরে এটি অনেক সময় ঠিকভাবে কাজ করে না, কারণ গাড়ির কাঁচ ইউভি রশ্মি আটকে দেয়। এছাড়া সাধারণ সানগ্লাসের তুলনায় এই লেন্স ততটা গাঢ় হয় না।
যারা নিয়মিত পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করেন, তাদের জন্যও বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করে তার ওপর সানগ্লাস পরা যেতে পারে। এছাড়া পাওয়ারযুক্ত সানগ্লাস তৈরি করেও ব্যবহার করা সম্ভব। সাধারণ চশমার ওপর ব্যবহারের জন্য ‘ক্লিপ-অন’ সানগ্লাসও কার্যকর একটি সমাধান।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সানগ্লাসের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ না থাকলেও লেন্সে বেশি স্ক্র্যাচ বা দাগ পড়ে গেলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। তাই লেন্সে অতিরিক্ত দাগ দেখা দিলে দ্রুত চশমা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন ড. ক্রিস্টিনা চার্নি।
/এসএন