• ঢাকা
  • রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম


ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ শুনে প্রেসিডেন্ট তা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি এ বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছেন। প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাহুল।তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। গোটা দেশ তা দেখেছে।’তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ভবন সূত্র রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে। সূত্রটির বক্তব্য, ‘এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক।’প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী জানান, আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বিরোধী নেতারা। সেখানে প্রধান বিচারপতির হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হবে।এর আগে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা সংসদ ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনের উদ্দেশে মিছিল করেন। পরে তাঁদের একটি ছোট প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায়।প্রেসিডেন্টের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন বিরোধীরা।প্রথমত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল করতে হবে, যে আইনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।তৃতীয়ত, সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনতে হবে।চতুর্থত, গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেসব নির্বাচন বাতিল করতে হবে।প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোটের ১০ জন নেতা অংশ নেন। অন্য নেতারা প্রেসিডেন্ট ভবনের পথে কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁদের হাতে ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের যোগসাজশ রয়েছে এবং নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন বিরোধী নেতাকর্মীরা।বিরোধীদের দাবি, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।তবে বিরোধীদের এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনেছে।তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই স্পষ্ট যে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং তা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই কংগ্রেসের একমাত্র উদ্দেশ্য। প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে তারা যা করেছে, তাতে এই সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।’অর্থাৎ, নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যেই তারা এই কর্মসূচি পালন করছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

/বিএসএস