• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম


‘ধর্ম আমাদের, সিদ্ধান্তও আমরাই নেব’: হিজাব বিতর্কে ওয়েইসি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ৮:৩১ পিএম

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে এক ছাত্রীর করা আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করেছেন সর্বভারতীয় মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।ওয়েইসি বলেন, ‘মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়।’ তাঁর বক্তব্য, সমতার অর্থ সবার ওপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া নয়। ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসকে সম্মান না করে নির্দিষ্ট একটি পোশাকবিধি চাপিয়ে দেওয়া হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে এরই মধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে বিচার চলছে। শবরীমালা মামলার প্রসঙ্গ তুলে ওয়েইসি বলেন, ধর্মীয় প্রথা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে উচ্চ আদালতের বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত ছিল।হিজাবের কারণে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ওয়েইসি। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে মুসলিম মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার দেশের মধ্যে অন্যতম কম। এমন পরিস্থিতিতে পোশাক নিয়ে কড়াকড়ি শিক্ষার সুযোগকে আরও সীমিত করতে পারে।ওয়েইসি আরও বলেন, ‘ধর্ম আমাদের। ধর্মীয় বিষয়ে কী প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে।’ তাঁর দাবি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশ ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।তাঁর মতে, সংবিধানে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতার অধিকারও এই নির্দেশের মাধ্যমে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।এদিকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ সম্প্রতি এক ছাত্রীর করা আবেদন খারিজ করে দেন। ওই ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরে পড়াশোনা করেছে। সে সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি। তবে একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর হিজাব পরা নিয়ে আপত্তি ওঠে। এরপর ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় ওই ছাত্রী।আদালত আবেদন খারিজ করে জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থী সেই পোশাকবিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিদ্যালয়ের ভেতরে হিজাব পরা ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা—এমন প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।আদালত আরও বলে, বিদ্যালয় একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধির মধ্যেই পরিচালিত হয়। সেখানে ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আলাদা পোশাকের অনুমতি দাবি করা যায় কি না, সেটিই ছিল মামলার মূল প্রশ্ন। আদালত সেই প্রশ্নের উত্তর বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকবিধির পক্ষেই দিয়েছে।এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সমতার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। ওয়েইসির মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও রাজনৈতিক ও জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

/বিএসএস