• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম


গাজার গণহত্যায় ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে ভারত: অ্যামনেস্টি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ জুলাই ২০২৬ ৭:১৪ পিএম

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজায় চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে থাকা ইসরাইলকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ভারত। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবুও ভারত এ ধরনের সরবরাহ বন্ধ করেনি।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরাইলে পাঠানো মোট ২ হাজার ৫৯৬টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ এবং সামরিক সরঞ্জামের চালান বিশ্লেষণ করেছে তারা।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইসরাইলের সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহনের উপাদান সরবরাহ করেছে। বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদানের মধ্যে ড্রোনের ওয়ারহেড এবং আর্টিলারি শেলের খোলও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অ্যামনেস্টির দাবি, বাণিজ্যিক চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে এসব পণ্য ইসরাইলের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। পরে সেগুলো দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং গাজায় সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।এর আগে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও ভারতের কাস্টমসের ৯১টি রপ্তানি নথি সংগ্রহ করে। ওই নথিতে ২০২৪ সালে ইসরাইলে বোমা ও গ্রেনেড-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ রপ্তানির তথ্য পাওয়া যায়। এসব চালানের ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ইসরাইলের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস, আইএমআই সিস্টেমস লিমিটেড এবং এমসিটি ম্যাটেরিয়ালস।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, গাজায় কী ঘটছে তা বিশ্ব প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করছে। এরপরও ভারত ইসরাইলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত শুধু অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থই হয়নি, বরং ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করেছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা প্রতিরোধে ইসরাইলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। এরপর জাতিসংঘের একাধিক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশ গেছে ভারতে। এর ফলে ভারত দেশটির অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ এসেছে ইসরাইল থেকে।এদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারত ও ইসরাইল নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে সামরিক, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও অতীতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

/বিএসএস