ভারতের আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকালে অবতরণের সময় বিমানঘাঁটির ভেতরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে এতে আগুন ধরে যায়।প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।ভারতীয় বিমানবাহিনী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জোরহাটে বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার খবর আমরা জেনেছি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’সামরিক পরিবহন ব্যবস্থায় এএন-৩২ বিমানকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নে বিশেষভাবে ভারতের প্রয়োজন বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছিল টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ এই বিমান। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে এ ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।প্রতিকূল পরিবেশে পরিচালন সক্ষমতার জন্য এএন-৩২ বিশেষভাবে পরিচিত। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বিমানঘাঁটি কিংবা তীব্র উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়াতেও এটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
বিমানটি সর্বোচ্চ সাড়ে সাত টন কার্গো, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাসুটার বহন করতে সক্ষম। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সামরিক সরঞ্জাম এবং রসদ পরিবহনে এ বিমান ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।এর আগে আসামের কার্বি আংলং জেলায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি সুখোই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও আসামে বিমানবাহিনীর একটি বিমান দুর্ঘটনার শিকার হলো।
গত ৫ মার্চ জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে নিয়মিত ফ্লাইটের অংশ হিসেবে দুই আসনবিশিষ্ট ওই সুখোই যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়ন করেছিল। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
/বিএসএস