• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম


ভারতে মুখে দাড়ি থাকায় মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুন ২০২৬ ১২:৩৬ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল (৪৭) নামে এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভীতি ও বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যার পরিণতিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ জুন পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকার সুপুরডিহি গ্রামে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে গিয়ে নিহত হন আকবর মণ্ডল।

তার ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মুসলিম ফেরিওয়ালাদের ওপর চাপ ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছিল।দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার মতো ফেরিওয়ালার কাজ করা জুলফিকার জানান, ঘটনার দিন সকালে আকবর মণ্ডল ভ্যানে করে বাসনপত্র বিক্রি করছিলেন।

একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।জুলফিকারের ভাষ্য, হামলাকারী প্রথমে তার বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে পরে তাকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়।তিনি বলেন, “দুপুর নাগাদ বান্দোয়ান থানা থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে জানান, আপনার বাবা খুন হয়েছেন।

দ্রুত হাসপাতালে চলে আসুন।”হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জুলফিকার বলেন, “তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তিনি মারা গেছেন।”এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শুধু দাড়ি থাকার কারণে কিছু লোক আমাদের জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করত।

তারা বলত, এখানে আর আমাদের ফেরি করতে দেওয়া হবে না। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে কাজ করি।”আকবর মণ্ডলের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার ছেলে।এদিকে পুনিশোল গ্রামের মণ্ডলপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডলও এলাকায় মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের গ্রামের মানুষ প্রায় ১৪ বছর ধরে ওই এলাকায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই ফেরি করেছে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের ওপর হামলা বেড়েছে। পুনিশোলের অধিকাংশ মানুষ গরিব ও শ্রমজীবী। আমরা সব সময় দুশ্চিন্তা নিয়ে কাজে বের হই।”তবে ঘটনার তদন্তে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি ১০ জুন বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতো-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডটি মাহাতোর বাড়ির ভেতরেই ঘটেছে।তিনি বলেন, “খুনটি কেন হয়েছে তা নিয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। ঝগড়া থেকে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।”পুলিশের দাবি, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পেছনে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

/বিএসএস