রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে ঘিরে গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা বাড়ায় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বহুগুণে জোরদার করেছে ক্রেমলিন। একটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে CNN এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করা রাঁধুনি, দেহরক্ষী ও ফটোগ্রাফারদের গণপরিবহন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা ব্যক্তিদের একাধিকবার স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগবিহীন ফোন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে নিয়মিত সফর করলেও চলতি বছরে পুতিন এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেননি। এমনকি গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনের স্থান ভালদাইতেও যাওয়া বন্ধ করেছেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দীর্ঘ সময় তিনি সুরক্ষিত বাঙ্কারে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ ও অভ্যুত্থানের ঝুঁকি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ক্রেমলিনে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক রয়েছে রুশ প্রশাসন।
এছাড়া পুতিনের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী সের্গেই শোইগু-কে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক মহলে প্রভাবশালী হওয়ায় সম্ভাব্য ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আলোচনায় উঠে আসছেন।
এরই মধ্যে শোইগুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুসলান সালিকভকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা অভিজাত মহলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুনে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছিলেন পুতিন। এরপর থেকেই তার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ধাপে ধাপে কঠোরতা বাড়ানো হচ্ছে।
ক্রেমলিনে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ক্রেমলিনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওই বৈঠকে চিফ অব জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ, ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান আলেকজান্ডার বর্টনিকভ-এর সমালোচনা করেন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুতিন বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত সমাধান দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই তার নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা Federal Protective Service-এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে ক্রেমলিনের ভেতরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।