• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা, ১২ দেশের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ নভেম্বর ২০২৬ ৮:১৮ পিএম

৪৮ ঘণ্টায় ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান আরাঘচি।

তিনি জানান, তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার, ওমান, মিসর, জর্ডান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, তিউনিসিয়া, ইরাক এবং দক্ষিণ সাইপ্রাসের গ্রিক সাইপ্রিয়ট প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

এসব আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনাগুলোতে তিনি তেহরানের মৌলিক অবস্থান তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, আগ্রাসন ও হুমকি বন্ধ এবং বিদেশি শক্তির ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতার বিস্তার ঠেকাতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আরাঘচি আরও বলেন, বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার ইরানের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনায় ফিরতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার শর্ত দিচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ অবমুক্ত করা এবং তেল রপ্তানির অনুমতি চায়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে বৃহত্তর সমঝোতা নিয়ে আলোচনা থমকে যাওয়ায় জুলাইয়ে আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরান।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত এড়ানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইরানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

/এএসএফ