• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পিএম


হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮:৩৯ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে দেশটির হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছে একাধিক সূত্র। তারা জানায়, যুদ্ধবিরতি শেষ হলেই দ্রুত অভিযান শুরু করার মতো পরিকল্পনা তৈরি রাখা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বিবেচনায় থাকা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তথাকথিত ‘ডায়নামিক টার্গেট’ বা চলমান লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টিকে। পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগর এলাকায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
বিশেষ করে ইরানের ছোট দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান, মাইন স্থাপনকারী জাহাজ এবং জলপথ বন্ধে ব্যবহৃত অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ রেখে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির কৌশল নিচ্ছে।
গত ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রচেষ্টাও ঝুঁকিতে পড়েছে।
আগের দফায় মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী লক্ষ্যবস্তু হলেও প্রথম মাসে বোমাবর্ষণ হয়েছিল মূলত প্রণালি থেকে দূরের স্থাপনায়। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলার পথ তৈরি করা। নতুন পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির আশপাশে আরও ব্যাপক বোমাবর্ষণের কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির অসংখ্য ছোট নৌযান আছে, যা জাহাজে হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে জলপথ খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে সূত্রগুলোর মতে, শুধু হরমুজ প্রণালির আশপাশে হামলা চালালেই তা দ্রুত উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করবে। যদিও বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন—এতে সংঘাত নতুন করে তীব্র হতে পারে।
হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তার কারণে ভবিষ্যৎ বা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করা হয় না। তবে প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দেওয়া হচ্ছে এবং সব বিকল্প আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন হামলা শুরু হলে ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আগের হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও বিপুল সংখ্যক ড্রোন অক্ষত রয়েছে।
সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান কিছু সামরিক সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। চুক্তিতে না এলে সেসব স্থাপনাতেও হামলা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন এবং কূটনৈতিক সমাধান চান। তবে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্ট নয়—নির্দেশ পেলেই মার্কিন বাহিনী আবার হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন