• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম


পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ, নামাজ পড়াতে প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পাড়ি দেন সিগবাতুল্লাহ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৫ পিএম

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের ভান প্রদেশে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পাহাড়ি মসজিদে দায়িত্ব পালন করতে প্রতিদিন দুর্গম ও খাড়া পথ পাড়ি দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন এক ইমাম। প্রাচীন ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ পরিচালনার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও স্বাগত জানান তিনি। তার নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের গল্প মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।

তুরস্কের দৈনিক ‘ডেইলি সাবাহ এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ মাস ধরে ঐতিহাসিক সুলেমান হান মসজিদে ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিগবাতুল্লাহ বিলমেজ। প্রতিদিন আতাতুর্ক কালচারাল পার্ক থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে ভান দুর্গের পাথুরে চূড়ায় অবস্থিত মসজিদটিতে পৌঁছান তিনি।

পথটি বেশ দুর্গম ও কষ্টসাধ্য হলেও দায়িত্ব পালনে কখনো পিছপা হন না বিলমেজ। নিয়মিত আজান দেওয়া, জামাতে নামাজ পরিচালনা এবং মসজিদ ও ওই অঞ্চলের ইতিহাস পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল জানা যায়নি। তবে ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান প্রথম সুলেমান, যিনি সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট নামেও পরিচিত, মসজিদটি সংস্কার করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তিন বছর আগে মসজিদটি সংস্কার করা হয় এবং পুনরায় ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর ও স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীনে গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমান দায়িত্বে যোগ দেন বিলমেজ। প্রতিদিনের এই দীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে তিনি বলেন, কাজটি বেশ ক্লান্তিকর হলেও আল্লাহর শুকরিয়া যে তিনি আনন্দের সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছেন। কারণ, তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কাজ বেছে নিয়েছেন।

বিলমেজ জানান, সাধারণত জোহরের নামাজের আগেই তিনি মসজিদে পৌঁছে যান। এরপর মাগরিবের নামাজের পর পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নেমে আসেন। মসজিদটি মিউজিয়াম ডিরেক্টরেটের অধিভুক্ত হওয়ায় সেখানে ফজর ও এশার নামাজের জন্য নিয়মিত জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।

ভান দুর্গ দেখতে আসা পর্যটকেরাও মসজিদটিতে ভিড় করেন। বিলমেজ তাদের স্বাগত জানান এবং মসজিদটির ইতিহাস, উরার্টীয় দুর্গ ও পুরোনো ভান এলাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দর্শনার্থীরা শুধু দুর্গ দেখতে আসেন না; সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক সুলেমান হান মসজিদটিও তাদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়।

পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ফলে নিজের ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও বেড়েছে বলে জানান বিলমেজ। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে কথা বলতে পারছেন তিনি। একই সঙ্গে মসজিদ, উরার্টীয় দুর্গ ও পুরোনো ভানের ইতিহাস তাদের কাছে সহজভাবে তুলে ধরতে পারছেন।

এ ছাড়া পর্যটকদের সঙ্গে ইসলাম ধর্ম নিয়ে প্রশ্নোত্তরমূলক আলোচনাতেও অংশ নেন তিনি। বিলমেজের মতে, এ ধরনের আলোচনা উভয় পক্ষের জন্যই ফলপ্রসূ।

প্রতিদিনের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিলমেজ জানান, পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর পর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তার ক্লান্তি দূর করে দেয়।

তিনি বলেন, ক্লান্তিকর পথ পেরিয়ে চূড়ায় পৌঁছে যখন চারপাশের দৃশ্য দেখেন, তখন এত সুন্দর ও মূল্যবান একটি দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। মানুষের দোয়া পাওয়া এবং তাদের মুখে ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন’—এমন কথা শোনা তার কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।

/এসএন