পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা বা পরিচয় গোপন করে এমন পোশাক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। ‘আইন নম্বর ৫৮/২০২৬’ নামে প্রকাশিত এই আইনটি ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এটি ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
আইনটির আওতায় জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা বা মুখ প্রদর্শনে বাধা সৃষ্টি করে এমন পোশাক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাকের নাম উল্লেখ না করে মুখ আড়াল করার পোশাকের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে আইনটি মূলত বোরকা বা নেকাব পরা মুসলিম নারীদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো আইনটি অনুমোদনের সময় বিষয়টির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মানব পরিচয় ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখকে একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে মুখ আড়াল করার নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে রাস্তাঘাট, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থান এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য সেবা দেওয়া হয়—এমন স্থানে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ক্রীড়া কার্যক্রম ও বিক্ষোভেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।
তবে নতুন আইনে বেশ কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত কারণ, পেশাগত প্রয়োজন, শিল্পকলা, বিনোদন বা বিজ্ঞাপনের প্রয়োজনে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। নিরাপত্তার কারণ, আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি বা অন্য কোনো আইনি বিধানের অনুমতি থাকলেও মুখ ঢাকার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া উড়োজাহাজ, কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনা এবং উপাসনালয় বা অন্যান্য পবিত্র স্থানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, যদি তা অবহেলাজনিত হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। আইন প্রয়োগ ও ঘটনাস্থলে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে হুমকি, সহিংসতা, জবরদস্তি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২৪০ দিনের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে শাস্তি আরও এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে।
আইনটির প্রস্তাবের উৎস ছিল ডানপন্থী চেগা দলের একটি বিল। পর্তুগালের পার্লামেন্টে ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই বিলটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। ভোটে পিএস, লিভরে, পিসিপি ও আরও কয়েকটি দল এর বিরোধিতা করে; পিএসডি, চেগা, ইলিবারেল ইনিশিয়েটিভ ও সিডিএস-পি পিপি পক্ষে ভোট দেয় এবং প্যান বিরত ছিল।
আইনটি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন মহলে বিতর্কও হয়েছে। এর বিরোধীরা বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। অন্যদিকে সমর্থকদের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগ এবং পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনা হয়।
আইনটি ২৪ আগস্ট সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশের ৩০ দিন পর, অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
/এএসএফ