• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম


নারী সংকটে চীন, বিয়ের আশায় লাখ লাখ ইউয়ান খোয়াচ্ছেন চীনের পুরুষেরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ আগস্ট ২০২৬ ৩:৩৪ পিএম

চীনে দীর্ঘদিনের লিঙ্গবৈষম্য ও জনসংখ্যাগত সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু ঘটকালি সংস্থার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন জীবনসঙ্গী খোঁজা নিঃসঙ্গ পুরুষেরা। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ ও পণ নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষ করে গুইঝৌ প্রদেশের গুইয়াং শহরকে ঘিরে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ প্রতারণা এখন দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চীনে এক সন্তানের নীতি এবং ছেলেসন্তানের প্রতি দীর্ঘদিনের পক্ষপাতিত্বের কারণে বর্তমানে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। এর ফলে গ্রামীণ এলাকা ও ছোট শহরগুলোর ৩০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের অনেকের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গুইয়াং শহরের কিছু ঘটকালি সংস্থা মাত্র তিন দিনের মধ্যে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ পুরুষদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও পণ দাবি করছে।

প্রতারণার শিকার ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াং জানান, পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের আশ্বাস পেয়ে তিনি একটি ঘটকালি সংস্থাকে চার থেকে পাঁচ লাখ ইউয়ান অর্থ দেন। বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী তিন সন্তানের মা, এর আগে একাধিকবার বিয়ে করেছেন, গুরুতর ঋণের মধ্যে রয়েছেন এবং যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই ঘটকালি সংস্থাটি তাদের কার্যালয় বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় বলে জানান ওয়াং ঝুয়াং।

আরেক ভুক্তভোগী ৫৯ বছর বয়সী শু রুলিন জানান, ছেলের বিয়ের জন্য তিনি প্রায় পাঁচ লাখ ইউয়ান খরচ করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত দিন পর জানতে পারেন, কনে পালিয়ে গেছেন। পরে পুলিশ ওই গৃহবধূ এবং ঘটকালি সংস্থার মালিকদের গ্রেপ্তার করে।

চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটকালি-সংক্রান্ত অপরাধে ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি দেশটির পাঁচটি সরকারি সংস্থা যৌথভাবে দেশজুড়ে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

নাসচিংয়ের আইনজীবী ফ্যান বিংহে বলেন, বিবাহসংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং প্রতারকদের কৌশলগত যুক্তির কারণে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অর্থ ফেরত পাওয়া ও অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বহু নিঃসঙ্গ পুরুষ বিয়ের আশায় অর্থ হারিয়ে এখন গুইয়াং শহরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্যদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করছেন তারা।

/এসএন