ঢালিউডের নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ, যার প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় মারা যান। মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়নি।
সম্প্রতি এই চিত্রনায়কের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ উত্তোলনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২০ মে তিনি আদালতে আবেদন করেছিলেন।
বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের স্বার্থে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, তার স্বামী প্রয়াত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি নম্বর বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান।
সেখানে গিয়ে তারা সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক এবং গৃহকর্মী আবুলের কাছ থেকে জানতে পারেন, অভিনেতা তখন ঘুমিয়ে আছেন। পরে তারা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যান।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোনে তাদের জানানো হয়, সালমান শাহর কী যেন হয়েছে এবং দ্রুত আসতে বলা হয়। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ইস্কাটন প্লাজার বাসায় পৌঁছে দেখেন, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন।
পরে তাকে দ্রুত হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর নতুন করে তদন্তের অংশ হিসেবে মরদেহ উত্তোলন ও পুনরায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়ায় আলোচিত এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের বিষয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।