কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সাজেদা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে তেঁতুল গাছের মগডাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, এর আগেও তাকে একই গাছ থেকে কয়েকবার উদ্ধার করা হয়েছিল। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে একই ধরনের ঘটনায় তাকে উদ্ধার করা হয়। নতুন করে একই ঘটনা ঘটায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার একটি তেঁতুল গাছ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সাজেদা বেগম ওই এলাকার আবু সাঈদের স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর একই তেঁতুল গাছের মগডাল থেকে জীবিত অবস্থায় সাজেদা বেগমকে উদ্ধার করেছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার ভোররাত থেকেই আগের মতোই নিখোঁজ হয়ে যান সাজেদা বেগম। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরের ধারে থাকা সেই তেঁতুল গাছের মগডালে তাকে বসে থাকতে দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে গাছ থেকে নিচে নামানোর চেষ্টা করা হলে সাজেদা বেগম নিজেই গাছের ওপরের অংশ থেকে নিচের ডালে নেমে আসেন। এরপর হঠাৎ করে তিনি পাশের পুকুরে লাফ দেন। এ ঘটনায় এলাকায় আবারও কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গৃহবধূর ছেলে জেলানি মিয়া জানান, ভোর রাতে তার মা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সবাই বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরপাড়ের তেঁতুল গাছের মগডালে তাকে দেখতে পান।
তিনি বলেন, এলাকাবাসী তাকে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করলে তিনি নিজেই নিচে নেমে এসে পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। জেলানি মিয়ার দাবি, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা আরও চারবার ঘটেছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য রায়হান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার ভোররাত থেকে সাজেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। সকালে স্থানীয়রা তাকে তেঁতুল গাছের মগডালে বসে থাকতে দেখেন। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
রায়হান কবির আরও বলেন, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে বলে জানা গেছে।
/এসএন