• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম


কক্সবাজারের আ/গুনে নি ভে গেল ফারিয়া-ফাইজানের জীবন, শো/কে স্তব্ধ চুয়াডাঙ্গা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪০ এএম

চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার চেনা গলিতে আর কোনোদিন ফিরবে না পাঁচ বছরের শিশু ফাইজান। বাড়ির সামনের ছোট্ট ফাঁকা মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে আর ক্রিকেট খেলবে না সে। মায়ের হাতে অর্ডার করা কেক খাওয়ার অপেক্ষাও আর পূরণ হবে না। কক্সবাজারের ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা ফারিয়া কবীরের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছে ছোট্ট ফাইজান। তাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায়।নিহত ফারিয়া কবীরের বয়স ৩৩ বছর। তিনি ঔষধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী। পাঁচ বছরের একমাত্র সন্তান ফাইজানকে নিয়ে তাদের ছিল ছোট্ট সংসার। চাকরির সুবাদে গত আট বছর ধরে পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে বসবাস করছিলেন নুর আলম।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান নুর আলম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগলে প্রাণ হারান তার স্ত্রী ফারিয়া কবীর ও শিশু সন্তান ফাইজান। ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন তারা দুজন।চেনা বাড়ি ও মাঠজুড়ে শুধুই স্মৃতিচুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় হারুন অর রশিদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন নুর আলমের পরিবার। চারতলা ভবনটির তৃতীয় তলায় দীর্ঘ আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তারা। প্রতিবেশীদের কাছে পরিবারটি ছিল অত্যন্ত পরিচিত ও আপনজনের মতো।ভবনের বাসিন্দা গৃহিণী জুঁই ও কেয়ারটেকার সাবিনা খাতুন বিনা তাদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, নুর আলমের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন খুবই ভালো মানুষ। ফারিয়া কবীর কিছুটা অসুস্থ থাকতেন। আর ছোট্ট ফাইজানকে প্রায়ই বাড়ির সামনের মাঠে খেলতে দেখা যেত। কখনো ভাইয়ের সঙ্গে, কখনো অন্যদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকত শিশুটি।সেই চেনা মুখগুলো আর দেখা যাবে না—এ কথা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে প্রতিবেশীদের। তাদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতি ভুলতে পারছেন না তারা।প্রতিবেশীরা বলেন, পরিবারটির সবাই খুব ভালো ছিলেন। তাদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তারা মহান আল্লাহর কাছে ফারিয়া কবীর ও শিশু ফাইজানের জান্নাত কামনা করেন।সহকর্মীদের কণ্ঠেও শোকনুর আলমের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের এলাকায়। অন্যদিকে তার স্ত্রী ফারিয়া কবীরের বাবার বাড়ি বরিশালে। চাকরির কারণে পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করছিলেন তিনি।নুর আলমের সহকর্মী ইসরাইল হোসেন ও জিন্নাত আলী জানান, গত ১৪ অক্টোবর নুর আলম পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যান। শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তারা জানতে পারেন, নুর আলম বেঁচে থাকলেও আগুনে পুড়ে মারা গেছেন তার স্ত্রী ফারিয়া কবীর ও ছোট্ট সন্তান ফাইজান।এমন খবর সহকর্মীদের মর্মাহত করেছে। প্রিয় সহকর্মীর পরিবারের সদস্যদের হারানোর বেদনায় তারাও শোকাহত হয়ে পড়েন। পরিচিতজনেরা বারবার ফিরে যাচ্ছেন ফারিয়া ও ফাইজানের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিতে।একটি অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে একটি পরিবারের দুই সদস্যকে। চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার সেই বাড়ি, বাড়ির সামনের ছোট্ট মাঠ আর চেনা গলিতে এখন রয়ে গেছে ফারিয়া ও ফাইজানের স্মৃতি। যে গলিতে একসময় হাসি-খেলায় মেতে থাকত ছোট্ট ফাইজান, সেই গলিতে আর কোনোদিন ফিরবে না সে। মায়ের অর্ডার করা কেকও আর খাওয়া হবে না তার।

/বিএসএস